Skip to main content

চুলের এর সমস্যা



মাথার চুল পড়ে যাচ্ছে। এই নিয়ে চিন্তার শেষ নাই। কত জনের কত কথা। একেক জন একে টিপস দেয়। সেগুলো কখনো কাজে লাগে বলে আমার মনে হয় নি। এই ব্লগে লিখার আগে আমি আমার বেক্তিগত কিছু কথা শেয়ার করতে চাই। আমি ফেমিলিতে সবাই টাক। আমার বাবা, আমার বড় ভাই, আমার চাচা রা সবাই ২৫ বছরের পর আর টাক হয়ে যায়। একই অবস্থা আমারো হয়েছিলো। মাথার চুল সব পড়ে যাচ্ছিলো। আমি অনেক জন এর কাছে অনেক টিপস নিয়েছি। সেগুলো কোখোনোই কোন কাজে কাগে নাই। দাক্তার এর কাছে গিয়েছিলাম। আমাকে মিনোক্সিডিল ব্যাবহার করতে দিয়েছিল। এতে অনেকটা উপোকার পেয়েছিলাম কিন্তু এটা স্থায়ি সমাধান ছিলো না। এর কারন টা পরে বলছি।
আগে আমার কিছু ছবি দেখেন।
এই যে ছবিটা দেখতেছেন। এটা ২০১২ সালের ছবি। ওই সময় মাথা ভরতি চুল ছিলো। তখন চুলে কোন সমস্যা ছিল না । নিশ্চিন্ত ছিলাম বলতে পারেন।
২০১৪ সালের পর থেকে চুল পড়া সমস্যা শুরু হয়। আর ২০১৬ সালের মধ্যে আমার মাথার সামনে দিকটা অর্ধেক চুল খালি হয়ে গেছিল। মাথায় চুলের এই অবস্থায় ছবি তুলতে মন চাইত না। ফ্রেন্ড রা যখন ছবি তুলত আমি লুকিয়ে লুকিয়ে থাকতাম। মন খুলে হাসতেও পারতাম না। নিচের ছবিটা দেখলে বুঝতে পারবেন।
হাজার মানুষের হাজার রকম কথা টিপস ফোলো করেছি। কিন্তু কাজে দেউ নাই। পরে ২০১৭ সালের দিকে আমি চুল নিয়ে পড়াশুনা শুরু করলাম। তারপর সেই অনুয়ায়ি আমার জীবন ধারায় চেঞ্জ নিয়ে আসলাম। তারপর আস্তে আস্তে মাথার চুলের পরিমান বাড়তে শুরু করল। এখন আলহামদুলিল্লহ চুল নিয়ে আর টেনশন নাই। নিচের ছবিটা ২০২০ সালের

আপনি হয়ত বলতে পারে যে আমার মাথায় এখনো চুল কম, কিংবা কোন টিকটক সেলিব্রেটির মত না। কিন্তু আমি জানি যে আমার চুলে কি ইম্প্রুভমেন্ট আমি করতে পেরেছি। যেখানে আমার বাবা, ভাই ২৫ থেকে ৩০ এর মধ্যে পুরো টাক হয়ে গেছে সেখানে আমি এখনো আমার চুল ধরে রাখতে পেরেছি, আলহামদুলিল্লাহ্‌ এটাই অনেক বড় আমার কাছে।
আমার এই গল্প টা বলার কারন একটাই আমি কোথাও থেকে শুনে বা বানিয়ে বানিয়ে আপনাকে কিছু বলব না। আমি নিজে ভুক্ত ভুগি। সমস্যায় পড়েছি , সমাধান খুজে এই মত জীবনধারা কে পরিবতন করে আমি লাভবান হয়েছি। আমি চুল নিয়ে স্টাডি করে যা যা পেয়েছি এই পস্টে সেগুলো শেয়ার করব। তবে আমি চুল নিয়ে কোন বিশেষজ্ঞ নই। আমি শুধুমাত্র আমার নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতেছি। সুতরাং এই টিপস গুলো এপ্লাই করলে নিজ দায়িত্বে করবেন।

আগে একটা প্রশ্ন করি

আমারদের সারা শরীরে চুল আছে। অন্য কোন জায়গার চুল পড়ে যাওয়ার মত কোন সমস্যা না হলেও মাথার চুল পড়ে যায় কেন ?

এক কথায় যদি এর উত্তর দেই তাহলে সেটা হল শরীরের ব্লাড সারকুলেশনের তারতম্য।

ব্যাখ্যা করছি ঃ 

আমাদের হার্ট রক্ত পাম্প করে আর সেই রক্ত পাম্প এর চাপে সারা শরীরে পৌছায়। আমাদের শরীরে যেসব অঙ্গের শিরা ধমনি যত প্রস্থ তাতে রক্ত তত বেশি সঞ্চালিত হয়।

আমাদের কপালের উপরের অংশ হচ্ছে শরীরের সবচেয়ে উচু অংশ। ফলে এতে রক্ত পৌছারে অভিকর্ষের বিরুদ্ধে বেশি কাজ করতে হয়। তার উপর এখানে হাড আর চামড়ার মাঝে যে এন্ডোডারমিক অংশ আছে মাংসপেশি আছে তার লেয়ার খুবই পাতলা। তাই স্বাভাবিক ভাবেই এখানে ব্লাড সারকুলেশন বা রক্ত সঞ্চালন প্রয়জনের তুলনায় অনেক কম।

ব্লাড সারকুলেশন বা রক্ত সঞ্চালন কেন প্রয়োজন ?

আমাদের শরীরে রক্তের অনেক গুলো কাজ করে তার মধ্যে কয়েকটি হল

১. আমরা যে খাবার খাই তা শরির এর প্রতিটি কোষে পৌছানো।
২. আমরা যে নিঃশ্বাস নেই এই অক্সিজেন প্রতিটী কোষে পৌছানো
৩. দুর্বল কোষ গুলোকে সুস্থ করে তোলা

আমাদের মাথার চামড়ায় প্রয়োজনের চেয়ে ব্লাড সারকুলেশন কম থাকায় উপরের কাজ গুলো ঠিক মত হয় না। তাই সেখানে থাকা চুলের গোড়ার কোষ গুলো মারা যায় এবং আমরা ধিরে ধিরে টাক হই। সুতরাং আপনার মাথার চুলের সমস্যার সমাধান করতে আপনাকে অবশ্যই মাথার চামড়ায় ব্লাড সারকুলেশন বাড়াতে হবে।

কিভাবে শরীরে ব্লাড সারকুলেশন বাড়ানো যায় ?

মাথায় ব্লাড সারকুলেশন বাড়ানোর অনেক গুলো উপায় আছে। আমি নিচে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করছি ,

মিনোক্সিডিলঃ  মিনোক্সিডিল বেবহ্যর করে আপনি শরীরের যে কোন অংশে ব্লাড সারকুলেশন বাড়াতে পারবেন । অনেক ডাক্তার একটা নির্দিষ্ট পরিমানে এটার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে ব্লাড সার্কুলেশন বাড়ানোর জন্য মিনোক্সিডিল বাড়ানো মোটেও উচিত না। কেনো মিনোক্সিডিল ব্যবহার করা উচিত না সেটা কিছুক্ষন পরে বলতেছি।

ডারমা রোলার ঃ মাথার চামড়ায় ব্লাড সার্কুলেশন বাড়ানোর জন্য অনেকেই ডারমা রোলার ব্যবহার করেন। এতে সুফলও দেখা দেয়। কিন্তু আমার মতে একটা ও ব্যবহার করা উচিত না। কারন টা কিছুক্ষন পরে বলতেছি।

তেল দিয়ে মাথায় মালিশঃ তেল দিয়ে নিয়মিত মালিশ করলে মাথার চামড়ায় ব্লাড সার্কুলেশন বেড়ে যায়। এতে কোন সাইড ইফেক্ট নাই । তবে অনেকের চুল এতই দুর্বল যে সামান্য নাড়াচাড়া দিলেই চুল উঠে আসে তাদের তেল মালিশ না করাই ভাল।

হেড স্টেন্ড ঃ আপনি দেয়ালের সাহায্যে বা অন্য যে কোন উপায়ে দিনে তিন বার ২ মিনিট করে হেড স্টেন্ড করতে পারেন। এতে আপনার মাথা নিচে আর পা উপরে হয়ে যাবে। ফলে অভিকর্ষ বলের প্রভাবে এমনিতেই আপনার মাথায় ব্লাড এর পরিমান বেড়ে যাবে। আমি সবাইকে এটা করার পরামর্শ দিব। তবে আপনি যদি খুবই মোটা হন তাহলে এটা না করাই ভাল। কারন পুরো শরীরের ভার ঘাড় আর গলার পেশির উপরে এসে পড়। এতে ঘাড় মটকে জেতে পারে। আর যদি আপনি পাতলা স্লিম হয়ে থাকেন তাহলে কোন সমস্যা হওয়ার কথা না। আমি নিয়মিত করি।

জগিংঃ আমার মতে জগিং করা সবচেয়ে বেস্ট হবে সবার জন্য। জগিং করলে আপনার শ্বাস প্রশ্বাস বেড়ে যাবে।ফলে রক্তে অক্সিজেন এর পরিমানও বেড়ে যাবে ফলে শুধু মাথার চামড়ায় না ববং সারা শরীরে ব্লাড আর অক্সিজেন পরিমান বেড়ে যায়। এতে মাথার চুলের সাথে দেহের প্রতিটি অঙ্গ এর উপকার হবে। তাই দিনে দুই বেলা অবশ্যই জগিং করার পরামর্শ সকালের জন্য।

সকালে ঘুম থেকে উঠে দুই গ্লাস পানি খেয়ে খালি পেটে ২০ মিনিট এর জন্য জগিং করতে চলে যান। আর বিকেলে যে কেনো খেলা বিশেষ করে ফুটবল খেলতে পারেন।

 ব্লাড সারকুলেশন এর সাথে কি খাচ্ছেন তার দিকে নজর দিতে হবে

আমাদের চুল এর একটা নির্দিষ্ট রাসায়নিক গঠন আছে। চুল গঠন হতে যেসব উপাদান লাগবে তা আপনাকে খাবারের মাধ্যেমে যোগান দিতে হবে। অর্থাৎ চুলের জন্য আপনার শরীরে যেসব নিউট্রেশন থাকা লাগবে
চলুন দেখি আমাদের চুলের জন্য কি কি উপাদান লাগে আর কোন কোন খাবারে তা পাওয়া যায়

বায়োটিন এর জন্য ডিম, ফুলকপি, মিষ্টি কুমড়া

ওমেগা থ্রি ফেটি এসি্ড এর জন্য তিসি খেতে পারেন। আমি সপ্তাহে দুই দিন তিসি ভর্তা খাই।

জিঙ্ক এরে জন্য ডিম, শাকসবজি, ডাল ও বীজ জাতীয় খাবার

আয়রন এর জন্য পালং শাক, ব্রোকলি, কচু শাক, লাল শাক, ছোলা, শিমের বিচি খেতে পারেন

প্রোটিন এর জন্য ডিম, মাছ, মাংস, দুধ, ডাল,  শিমের বিচি খেতে পারেন। যেহেতু ।

ভিটামিন সি ছাড়া আয়রন শরীরে কোন কাজ করতে পারে না। চুল আর তকের জন্য ভিটামিন সি খুবই প্রয়োজন। এর জন্য লেবু, আমলকী বেস্ট। এটা ছাড়াও যে কোন কাচা ফোল খেতে পারেন।

মাল্টি ভিটামিনঃ বর্তমানে আমরা যে খাবার খাই সেগুলো হাইব্রিড পদ্ধতিতে চাষ করা হয়। সার + হরমোন + এন্টিবায়টিক ইত্যাদি দিয়ে শুধু আকৃতিরে বড় করে বাজার জাত করা হয়। তাই এগুলো তে পর্যাপ্ত ভিটামিন থাকে না। এই কারনে ডাক্তার এর সাথে কথা বলে আপনি মাল্টিভিটামিন নিতে পারেন। মাল্টিভিটামিন এক ধরনের ফুড সাপ্লিমেন্ট তাই এতে কোন ক্ষতি হবে না।

পানিঃ দিনে অবশ্যই ২ কেজির উপরে পানি খেতে হবে।

খাবার এর কিছু নিয়ম ঃ খাবার খাওয়ার ৩০মিনিট আগে ৩০ মিনিট পরে পানি খাবেন। এর মাঝে কোন পানি খাবেন না। খাবার খাওয়ার সময় পানি খাবেন না। খাবার শেষে ২/১ ঢক পানি খাবেন। খাবার খাওয়ার ৩০ মিনিট পর ইচ্ছা মত পানি খাইয়েন। এই ভাবে পানি না খেলে খাবার এর পুষ্টি ঠিক মত পাবেন না। এর কারন বলতে গেলে অনেক কিছু বলতে হবে। তা আজ আর না। আপনারা চাইলে
এটা নিয়ে একটা আর্টিকেল লিখব।

চুলে খুস্কি থাকলে দূর করতে হবে ।

আপনার চুলে খুশকি থাকলে চুলের গোড়া অসুস্থ হয়ে যাবে। তাই খুশকি থাকলে তা অবশ্যই পরিষ্কার করতে হবে। তবে চুলে সেম্পু বা কন্ডিশনার দেয়া আমি উচিত বলে মনে করি না।
খুশকি দূর দূর করার জন্য আমি একটা হেয়ার পেক ইউজ করি। এই হেয়ার পেক খুশকির সাথে চুলপড়া বন্ধ করতে মেজিকের মত কাজ করে।

আমি যা করি , ৪/৫ টা ৭/৮ ইঞ্ছি লম্বা এলোভেড়ার জেল + ৫০ গ্রাম সারা রাত ভেজানো মেথি  + মেহেদি পাতা ইচ্ছা মত + ৫/৬ টা পেয়াজ পানি দিয়ে এক সাথে ব্লেন্ড করে একটা ঢাকনা যুক্ত পাত্রে করে ফ্রিজে ডিপ এ রেখে দেই। ২/৩ দিন পর পর যতটুকু চুলে লাগে ততটুকু বের একটা সম্পূর্ণ লেবুর রস মিক্সড করে মাথায় এই পেক ব্যবহার করি। এতে চুলে খুশকি থাকে না। এই ভাবে একবার পেক বানালে আমার মাস খানেক চলে যায়।

চুলে তেল ব্যাবহার করতে হবে।

সপ্তাহে ২/১ দিন চুলে তেল দিতে হবে। বাজারের তেলে প্যারাফিন + ভেজাল + সেন্ট + অন্যান্য কেমিক্যাল থাকে যা মোটেও চুলের জন্য ভাল না। আমি নারকেল তেল নিজে বাসায় বানাই। দুই টা নারকেল দিয়ে বানানো তেল আমার ৩/৪ মাস চলে যায়। ৩/৪ ফোটা তেল হাতে ভাল করে মেসেজ করে তা চুলে আলতো করে মাখতে হবে। আগে আমি চুলে তেল দিতাম না। এখন চুলে তেল না দিলে একেবারে ভাল লাগে না। নারকেল তেল বানানোর পদ্ধতি ইউটিউবে দেখে নিয়েন।

বালায়ামঃ বালায়াম হল চুলের একটা বিশেষ ধরনের ব্যায়াম। এর মাধ্যমে আপনি আপনার চুলের ডিএক্টিভ কোষ গুলোকে পুনরায় একটিভ করতে পারবেন। ইউটিউবে বালায়াম এর অনেক ভিডিও আছে দেখে নিয়েন।

আপনাকে বাদ দিতে হবে কিছু

আপনাকে অনেক কিছু বাদ দিতে হবে তার মধ্যে অন্যতম তিন টা হল

১. সিগারেট সহ যে কোন মাদক
২. মাস্টারবেশন
৩. টেনশন

এগুলোর কারনে কিভাবে চুল পড়ে তার ব্যাখ্যা আর লিখতে ইচ্ছা করছে না। এই তিন্টার মধ্যে যে কোন একটা ও যদি আপনার অভ্যাস হয়ে থাকে তাহলে পরিশ্রম বিথা জেতে পারে।

 মিনোক্সিডিল কেনো ব্যবহার করা উচিত না

এখানে আপনি বলতে পারেন যে, ডাক্তার মিনোক্সিডিল বেবহার করতে বলে আপনি কেনো মানা করছেন। হ্যাঁ ভাই আমি মানা করতেছি। কারন পৃথিবিতে এলোপেথি যত ঔষুধ আছে এর প্রায় প্রতিটি তে সাইড ইফেক্ট আছে। উদাহরন হিসেবে, আমরা সবাই জানি যে বেশি ঘুমের ঔষুধ খেলে হার্ট এর প্রবলেম হয়। এখন আপনার ঘুমের সমস্যা, নিয়ে ডাক্তার এর কাছে গেলে ডাক্তার আপনাকে সরাসরি ঘুমের ঔষুধ দিবে। কিন্তু ডাক্তার এটা কখনো বলবে না ঘুমের ঔষুধ বেশি খেলে হার্ট দুর্বল হয়।

এখন মিনোক্সিডিল এর কথায় আসা যাক। মিনোক্সিডিল কি আগে সেটা জানতে হবে। পূর্বে এটাকে ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রন করার ঔষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হত। সাইড ইফেক্ট হিসেবে অতিরিক্ত চুল দাড়ি গজানোর কারনে অনেকে এটা কে চুলদাড়ি গজানোর ঔষুধ হিসেবে বেবহার করে। কিন্তু আপনি যখন এটা শরীরে লাগাচ্ছেন তখন এই ব্লাড প্রেশার এর ঔষুধ চামড়ার ভিতর দিয়ে আপনার ব্লাডে মিশে যাচ্ছে। এখন এক জন সুস্থ মানুষ নিয়মিত ব্লাড প্রেশার এর ঔষুধ নিলে এর প্রভাব পড়বে আপনার হার্ট এর উপর।

মিনোক্সিডিল টানা চার মাস বেবহার করলে এর ফলাফল দেখতে পাবেন। এই চার মাস পর্যন্ত এক জন সুস্থ মানুষ নিজের অজান্তে হার্ট এর ক্ষতি করে ফেলছেন।

ভাই রে ভাই, টাক মাথায় আপনি সারা জীবন সুস্থ ভাবে বেচে থাকতে পারবেন। কিন্তু অসুস্থ হার্ট নিয়ে একটা দিন পার করা কষ্ট কর।

আর একটা ইনপরটেন্ট কথা হল মিনক্সিডিল পারমানেন্ট সলিউশন না। যতদিন এ্যাপ্লাই করতে থাকবেন, ততদিন হেয়ার লস এ্যারেস্টেড কিংবা অন্ততঃ ম্যানেজেবল লেভেলে থাকবে। কিন্তু ড্রাগ বন্ধ করলে আবার চুলপড়া শুরু হবে। আবার একটা সময় মিনোক্সিডিল কাজ করা বন্ধ করে দিবে। তখন এর মাত্রা বাড়ায় বেবহার করতে হবে। আর বেবহার ছেড়ে দিলে সব শেষ।

ইন্টারনেটে আপনি শুধু এই প্রকারের প্রোডাক্টগুলির সুফল আর গুন্কীর্তনই বেশি দেখে থাকবেন যেগুলি লেখা হয়েছে কম্পানির নিজেদের প্রোডাক্ট প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে। সেগুলি পড়া মাত্রই আপনার মনে হবে - এই কিনলাম, মাথায় দিলাম আর টাক মাথায় চুল গজানো শুরু করলো।
বাস্তবতা সম্পূর্ণ উল্টো। কারণ গল্পের অপর পৃষ্ঠা সম্পর্কে আগে থেকে কেউ খবর নিতে চায় না। আমি আরো বাস্তব কিছু বললে হয়তো বলতে পারেন - ব্যাড অথবা গুড রিভিউ দিচ্ছি। আমি শুধু আমার বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু বিষয় সম্পর্কে আলোকপাত করলাম। তবে অন্যান্য আরো ডাক্তারগণ যারা নিয়মিত চুলের চিকিৎসা করেন তাদের যদি জিজ্ঞেস করেন অথবা আপনি নিজে যদি এটি ব্যবহার করেন তাহলে বিষয়টি প্রাক্টিক্যালি বুঝতে পারবেন।
এটার আরো সাইড ইফেক্ট আছে। সেগুলো বুঝতে হলে মেডিকেল টার্ম জানা লাগবে। নিচের লিঙ্ক এ দেখ পারেন। বাংলা ভাষায় এর সাইড ইফেক্ট এর লিঙ্ক পাইলাম না।

ডারমা রোলার কেনো ব্যবহার করা উচিত না
যদিও ডারমা রোলার খুব ভাল কাজ করে তবুও এই জিনিস টা আমি মোটেও পছন্দ করি না। কারন হল ডারমা রোলার এ চিকন চিকন সুচ থাকে। এই সুচ গুলো দিয়ে টাক মাথায় ছিদ্র করা লাগে। অর্থাৎ নিজেকে আহত করতে হয়। এখন শরীরের একটা অংশে সারা জীবন বার বার ক্ষত সৃষ্টি করা কত টুকু যুক্তি যুক্ত। আর আল্লাহ না করুক সে ক্ষত তে কোন জীবানু লেগে ইনফেকশন হলে কি করবেন ?
উপরে জা কিছু বললাম সব আমার বেক্তি গত মতামত। এগুলো কেউ নিজের সাথে এপ্লাই করলে নিজ দায়িত্বে করবেন।

Comments